মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ছাত্র হত্যা মামলার আসামিদের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হোসেন্দী ইউনিয়নের টান বলাকিচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, হোসেন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্টু চেয়ারম্যান ও নাজমুল। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
বুধবার সন্ধ্যায় যুবদল নেতা আনোয়ার প্রধানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। একই সময় বিএনপির ওয়ার্ড কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়। হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে শাহাদত, আসিফ, নজরুল ইসলাম ও শুক্কুর আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হামলায় অংশ নেন ছাত্র হত্যা মামলার আসামি গিয়াস উদ্দিন, মন্টু চেয়ারম্যান ও নাজমুল। তারা মঙ্গলবার রাতেই এলাকায় ফেরেন। তাদের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষের পর এলাকা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতঙ্কে অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে, রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর থেকে গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।